‘পারিব না’ এ কথাটি বলিও না আর,
কেন পারিবে না তাহা ভাব একবার।
পাঁচজনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর পরখ তাহার
একবারে না পারিলে দেখ শতবার।
‘পারিব না’ শিরোনামে শিক্ষামূলক কবিতাটি লিখেছেন কালীপ্রসন্ন ঘোষ। তার জন্ম ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই বিক্রমপুরের ভরাকর গ্রামে। বাবা শিবনাথ ঘোষ ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। কালীপ্রসন্ন ঘোষ মকতব, চতুষ্পাঠী ও ইংরেজি স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ছোটবেলাতেই তিনি সংস্কৃতি, ফারসি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাও আয়ত্ত করেন। এন্ট্রান্স পাস করেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে। মাত্র বিশ বছর বয়সে কলকাতার ভবানীপুরে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অন্যান্য মনীষীর প্রশংসা অর্জন করেন। এরপর থেকেই ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে তার একটা যোগসূত্র স্থাপিত হয় এবং একসময় তিনি ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন।
কালীপ্রসন্ন ঘোষ ১৮৬৫ সালে বাইশ বছর বয়সে ঢাকার নিম্ন আদালতে পেশকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এখানে এগারো বছর চাকরি করার পর তিনি ভাওয়াল এস্টেটের প্রধান দেওয়ান হিসেবে যোগ দেন।
কালীপ্রসন্ন ঘোষ ছিলেন পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মসমাজের একজন বিশিষ্ট সভ্য। তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন ১৮৭০ সালে ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ঢাকা শুভসাধিনী সভার মুখপত্র ‘শুভসাধিনী’ সম্পাদনার মাধ্যমে। ঢাকার ব্রাহ্মযুবকদের জন্য প্রকাশিত এক পয়সা মূল্যের এ পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক। এর চার বছর পর ১৮৭৪ সালে তিনি সম্পাদনা করেন সেকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পত্রিকা ‘বান্ধব’। পত্রিকাটি ছিল বঙ্গদর্শনের আদর্শপুষ্ট।
পা-িত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বঙ্গের বিবুধমহল কর্তৃক ‘বিদ্যাসাগর’ এবং ইংরেজ সরকার কর্তৃক ১৮৯৭ সালে ‘রায় বাহাদুর’ ও ১৯০৯ সালে ‘সিআইসি’ উপাধিতে ভূষিত হন। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক কালীপ্রসন্ন ঘোষ ২৯ অক্টোবর ১৯১০ সালে চলে যান না ফেরার দেশে।


